ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ , ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বালু ব্যবসা জ'ম'জ'মা'ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৫ ১০:৫০:৪৯
বদরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বালু ব্যবসা জ'ম'জ'মা'ট বদরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বালু ব্যবসা জমজমাট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপি অফিসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিযুক্ত ব্যানার ঝুলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যমুনেশ্বরী নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু তুলে তা বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। বালু তোলা বন্ধের প্রতিবাদে কয়েকবার ঢাকঢোল পিটিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা সবুজ মেম্বার, বিএনপির সহসভাপতি অহিদুল ইসলাম, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সোহাগ সোনার ও লোহানীপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আমির হামজা দীর্ঘদিন ধরে যমুনেশ্বরী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। নাগেরহাট এলাকার বালু পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাসিক সভায় ঝড় উঠলেও তা বন্ধ হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিএনপি নেতারা কথায় কথায় প্রতিবাদকারীদের প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করে থাকেন, এমন ঘটনা নিত্যদিনের। 


বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২০ আগস্ট রাতে বদরগঞ্জ উপজেলার বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নাগেরহাট বাসস্ট্যান্ডে আসেন এবং অবৈধ বালু বিক্রির অফিসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ঝুলিয়ে রাখেন বালুখেকোরা। দলীয় অফিসকে অবৈধ বালু বিক্রির অফিস বানানো নিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ব্যানার সরানোর প্রতিবাদ করে কুতুবপুর উত্তরপাড়া এলাকাবাসী। এ ঘটনায় প্রতিবাদকারী আল-আমিনকে মারধর করেন বিএনপি নেতা অহিদুল ইসলাম ও জামানসহ তার সহযোগীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বিএনপি নেতা অহিদুলের কাছে ছাত্রদল কর্মী আল-আমিনকে মারার কারণ জানতে চাইলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর যুবদল নেতা আমির হামজার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বালুর পয়েন্ট নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।


বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সাহেব আলী জানান, আল-আমিন ছাত্রদলের সদস্য। তাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছে বালুখোরেরা। মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মারপিটের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তারা নিজের বাইকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি উত্তম কুমার সাহা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই রাতের ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে নদী থেকে আর একটি বালুর কণাও অবৈধভাবে তুলতে দেওয়া হবে না।’ অথচ ঘটনার চার দিনের মাথায় বিএনপির নেতারা স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলন কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতর্কিত হাফ ডজন বিএনপি নেতার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় অন্তর্দ্বন্দ্বে পড়েছেন বিএনপির একাংশ নেতারা।


বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।’


 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ